স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফিরিয়ে নেবে কি ফ্রান্স!
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:৫৩ এএম, ২২ মার্চ ২০২৫ শনিবার

ফ্রান্সের একজন পার্লামেন্টারিয়ান রাফায়েল প্লাবসম্যান দাবি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিউইয়র্কের ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ ফ্রান্সের কাছে ফিরিয়ে দেয়া। যুক্তরাষ্ট্রে এখন আর এর মর্যাদা রাখতে পারছে না ট্রাম্প সরকার। ফরাসি সংবাদপত্র ‘লা মন্ডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ওই পার্লামেন্ট সদস্য। তার যুক্তি হচ্ছে, ভাস্কর্যটি যে মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেয়া হয়েছিল এখন আমেরিকা তা আর ধারণ করে না।
যুক্তরাষ্ট্রকে চেনা যায় কেবলমাত্র ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ দিয়ে। আমেরিকার স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয় এই ভাস্কর্যকে। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এই মূর্তি। এবার সেই স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি করেছেন ফ্রান্সের ওই এমপি। তার দাবি, যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে এটি উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল সেই মূল্যবোধের মর্যাদা দেয় না ট্রাম্প সরকার।
তিনি যুক্তি দিয়েছেন, যে কারণে ফ্রান্স আমেরিকাকে ওই ভাস্কর্যটি উপহার হিসেবে দিয়েছিল এখন সেই মূল্যবোধের মর্যাদা দেয় না ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। তাই আমেরিকার কাছ থেকে স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফিরিয়ে নেওয়া উচিত ফ্রান্সের। এক জনসমাবেশে এই দাবি করেন ফ্রান্সের বামপন্থি রাজনীতিবিদ রাফায়েল প্লাবসম্যান। সমাবেশে তিনি বলেন, আমাদের স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফিরিয়ে দাও। আমরা সেইসব আমেরিকানদের বলব যারা অত্যাচারীদের পক্ষ বেছে নিয়েছে, যারা বৈজ্ঞানিক স্বাধীনতার দাবিতে গবেষকদের বরখাস্ত করেছে। তাদের উচিত স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফিরিয়ে দেওয়া। তার দাবি, এই ভাস্কর্য আমেরিকাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা এখন সেই ভাস্কর্যের মর্যাদা রাখতে পারছে না। তাই নিজের দেশেই সেই মূর্তি ঠিকমতো থাকবে।
১৮৮৫ সালে স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফ্রান্স থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ঐ মূর্তির ডিজাইন করেছিলেন ফরাসি শিল্পী ফ্রেডেরিক বার্থোলডি। ১৮৮৬ সালের অক্টোবরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট গ্লোভার ক্লিভল্যান্ড ওই ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন। এরপর ১৯২৪ সালে ভাস্কর্যটি ‘জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ’ হিসেবে ঘোষণা করে মার্কিন সরকার। ট্রাম্প প্রশাসনের নানা বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে লিবার্টি দ্বীপে অবস্থিত এই স্ট্যাচু এখন ফ্রান্সের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়া উচিত বলে দাবি করলেন রাফায়েল প্লাকসম্যান। উল্লেখ্য, ইউক্রেন ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি বিরোধিতা ও সমালোচনা করেছেন তিনি।