শুক্রবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৫   চৈত্র ২১ ১৪৩১   ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

রেমিট্যান্স ফেয়ার’র নামে প্লেজার ট্রিপ

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:৫৫ এএম, ২২ মার্চ ২০২৫ শনিবার


 
 

  •  গর্ভনর ও একঝাঁক ব্যাংক এমডি আসছেন
  •  লাখো ডলার খরচের মহোৎসব
  •   বাংলাদেশ আমার মা: বিশ্বজিৎ সাহা


নিউইয়র্কে আবারও ব্যাপক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আগামী ১৯ ও ২০ এপ্রিল দুইদিনব্যাপি রেমিট্যান্স ফেয়ারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত যখন চরম অস্থিরতার মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে তখন নিউইয়র্কে আসছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, পরিচালকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের একঝাঁক চেয়ারম্যান ও এমডি। থাকছে বিশাল অংকের খরচ। বিভিন্ন ব্যাংকের এমডিদের এই আসরে ‘অফসোর ব্যাংকিং’ নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। নিউইয়র্কের একটি পাঁচতারকা হোটেলে উদ্বোধন শেষে জ্যাকসন হাইটস-এর সানাই রেস্টুরেন্টে দুইদিনের অনুষ্ঠান চলবে। একটি ফোর কালারের স্মরণিকা ফেয়ার উপলক্ষ্যে বের করার প্রস্তুতি চলছে। এর আগেও বাংলাদেশে অসংখ্য ব্যাংক যখন গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না তখন বিভিন্ন ২৬ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদের নিয়ে ম্যারিয়ট হোটেলে এক রাতে ৫৫ হাজার ডলার ব্যয়ে ‘অফসোর ব্যাংকিং’ প্লেজার ট্রিপ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বইমেলা, বৈশাখী উৎস
বইমেলা ও  বৈশাখী উৎস এর গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বজিৎ সাহা কয়েক বছর ধরেই রেমিট্যান্স ফেয়ার করে আসছেন। এবার আরও বড় পরিসরে তার আয়োজন চলছে। বিইউসিআই-এর সিইও এবং রেমিট্যান্স ফেয়ারের প্রধান সমন্বয়কারী বিশ্বজিৎ সাহার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আগামী ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিউইয়র্কে আসবেন । বরাবরের মতো এবারও নিউইয়র্কে যারা রেমিট্যান্স ব্যাবসায়ি তাদের পাশ কাটিয়ে রেমিট্যান্স ফেয়ারের আয়োজন করা হচ্ছে। তাতে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মেলার প্রধান সমন্বয়ক বিশ্বজিৎ সাহা রেমিট্যান্স ব্যবসায়ি না হওয়া সত্ত্বেও কেন বারবার এমন আয়োজন করছেন এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি ‘আজকাল’কে বলেন, ‘আমি সকল রেমিট্যান্স ব্যবসায়িকে এই মেলায় আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সবাইকে চিঠি দিয়েছি, দেখা করেছি। ডকুমেন্ট ছাড়া আমি কোন কাজ করি না।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মেলার বাজেট ৪৫ হাজার ডলার।  গভর্নরের সঙ্গে একান্তে তাদের শীর্ষ ৫ জন ব্যাবসায়িকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন রেখেছি। কারণ বাংলাদেশ আমার মা। আমি আমার মা’ বাংলাদেশকে ভালবেসে এই কাজটি দীর্ঘদিন ধরে করে চলেছি। এমন কাজের জন্য আমি তিন দশক ধরে অবিরাম কাজ করছি। দেশের বর্তমান ক্রান্তিকালে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে দেশ টিকে থাকবে।’ বাংলাদেশ-ইউএসএ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিইউসিআই) এ ধরনের কাজ করার জন্যই হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ আয়োজনের আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, প্রেসিডেন্ট বিইউসিআই।
এব্যাপারে নিউইয়র্কের রেমিট্যান্স ব্যবসায়িদের সংগঠনের প্রেসিডেন্ট এবং সানম্যান গ্লোবাল এক্সপ্রেসের সিইও এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ রানা তপন বলেন, প্রকৃত রেমিট্যান্স ব্যবসায়িদের পাশ কাটিয়ে তারা এমন আয়োজন করার পেছনে দেশে রেমিট্যান্স বাড়ানো মূল উদ্দেশ্য নয়। এটা নৈতিকভাবে কেউ সমর্থন করে না। তারা নিজেরা বাংলাদেশে যোগাযোগ করে প্রতি বছর নিউইয়র্কে এই ধরনের আয়োজন করায় আয়োজনটি পক্ষপাতদুষ্ট হচ্ছে। নানা সমালোচনা হচ্ছে। বিভিন্ন মিডিয়ায় মেলা নিয়ে নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হচ্ছে। যা আমাদের কাম্য নয়।আর তিনিতো রেমিট্যান্স ব্যবসায়ী নন। বই ব্যবসায়ী। নৈতিকতার বিষয়টি নিয়ে আর কি বলবো।
নিউইয়র্কের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সিইও এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল মালেক বৃহস্পতিবার ‘আজকাল’কে বলেন, ‘আমি আয়োজনের সাথে জড়িত নই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ভাবনা থাকা দরকার ছিল আমরা কোথায় এবং কার আহবানে নিউইয়র্ক যাচ্ছি। যারা এই আয়োজন করছে এটা তাদের একটা ব্যাবসা। তারা দাওয়াত দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান থেকে চিন্তা করা দরকার ছিল। ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট আবদুল হাই সরকার এবং ব্যাংকারদের সংগঠন মিলে এবার আসছে বলে শুনেছি।’ আমরা যারা রেমিট্যান্স নিয়ে কাজ করি, তারা এর সাথে জড়িত নই। বিশ্বজিত সাহা এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য আমাকে দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি কি ব্যবসায়িক স্বার্থে এই মেলা করছেন? এ প্রশ্ন অনেকেরই।
আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আগামী ১৮ এপ্রিল নিউইয়র্ক পৌঁছাবেন। ১৯ ও ২০ এপ্রিল ২০২৫, দুই দিনব্যাপি অনুষ্ঠিতব্য রেমিট্যান্স ফেয়ারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করবেন তিনি। বাংলাদেশ-ইউএসএ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিইউসিসিআই) এবং ইউএসএ-বাংলা বিজনেস লিংক যৌথভাবে এ মেলার আয়োজক। আর সহযোগী হিসেবে থাকছে- বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকস এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টি। এবারের মেলায় প্রতিপাদ্য- ‘বৈধ রেমিট্যান্স, উন্নত বাংলাদেশ।
মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন, ড. মোঃ হাবিবুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক, মনোয়ার উদ্দীন আহমেদ, পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক, মোঃ হাফিজুর রহমান, প্রশাসক, এফবিসিসিআই, মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, চেয়ারম্যান, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, আব্দুল হাই সরকার, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস, সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, চেয়ারম্যান, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, চেয়ারম্যান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, নজরুল ইসলাম স্বপন, চেয়ারম্যান, এক্সিম ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি, মোঃ মেহমুদ হোসেন, চেয়ারম্যান, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, মনজুরুর রহমান, চেয়ারম্যান, পূবালী ব্যাংক পিএলসি, মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, চেয়ারম্যান, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি, ইঞ্জিনিয়ার মো. মোখলেসুর রহমান, চেয়ারম্যান, এসবিএসি ব্যাংক পিএলসির, মতি উল হাসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, মোহাম্মদ আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পূবালী ব্যাংক পিএলসি, তারেক রিয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এনআরবি ব্যাংক পিএলসি প্রমুখ। এছাড়া বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনেক ব্যক্তিবর্গ মেলায় উপস্থিত থাকবেন।সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং, অ্যাপ ডেভলপার, মানি এক্সচেঞ্জ ও বিভিন্ন চ্যানেল পার্টনার মেলায় অংশ নিবে বলে জানানো হয়েছে।