শিক্ষা বিভাগই বন্ধ করছেন ট্রাম্প
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৩:২৭ এএম, ২২ মার্চ ২০২৫ শনিবার

ফেডারেল সরকার পরিচালতি মার্কিন শিক্ষা বিভাগ ভেঙ্গে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এ আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।
ওই নির্বাহী আদেশ শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকমোহনকে ‘শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষা বিষয়ক কর্তৃত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার’ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বিভাগ দেশের ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন পোর্টফোলিও তত্ত্বাবধান করে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থীদের তহবিল সরবরাহ করে।
তবে, আদেশ স্বাক্ষর হলেও যদিও কংগ্রেসের আইন পাস করা ছাড়া ট্রাম্প এই সংস্থাটিকে বন্ধ করতে পারবেন না। একমাত্র কংগ্রেসই শিক্ষা বিভাগকে নির্মূল করতে পারে। তবে এটি করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ মার্কিন সেনেটে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের ৫৩-৪৭ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ের একটি সংস্থাকে বিলুপ্ত করতে ৬০ ভোটের প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে এই প্রস্তাব পাস করাতে এর পক্ষে সাতটি ডেমোক্র্যাট ভোটের প্রয়োজন হবে। তবে ডেমোক্র্যাটরা এটি নির্মূলে সায় দিবে এমন কোন কোন প্রতিশ্রুতিও দেয়নি। কংগ্রেস এতে সায় না দিল ট্রাম্প প্রশাসন সংস্থাটিকে ফান্ডের অভাবে ফেলতে পারে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে, ট্রাম্প সরকার শিক্ষা বিভাগের তার প্রায় অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে বিভাগে ২ হাজার ১৮৩ জন কর্মচারী রয়েছেন, যা জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার সময় ছিল ৪ হাজার ১৩৩ জন।
আদেশ সাক্ষরের পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আশা করেছিলেন যে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ঋণ সহ শিক্ষা বিভাগের ন্যূনতম কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিভাগটি থেকে অব্যাহত থাকবে।
অধিকার বিষয়ক বিভন্ন সংস্থা বলছে এ সিদ্ধন্তের জন্য সুবিধাভোগীদের অনেক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এক বিবৃতিতে সেন্টার ফর রেসপন্সিবল লেন্ডিং-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ফেডারেল পলিসি ডিরেক্টর মিত্রিয়া স্পটসা বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী বা পরিবারের স্বার্থ রক্ষা করে না। এটি সার্বজনীন শিক্ষাকে দুর্বল করে, নাগরিক অধিকার প্রয়োগকে বাধা দেয় এবং মানসম্মত শিক্ষার মৌলিক অধিকারের চেয়ে কর্পোরেট স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার ১৯৭৯ সালে বর্তমান মার্কিন শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারপর থেকে, বিভাগটি বিভিন্ন সময় অস্তিত্বগত হুমকিতে পড়ে। সাবেক রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রিগ্যান এটি অবসানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পও তার প্রথম মেয়াদে এটিকে শ্রম বিভাগের সাথে একীভূত করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভাগটি তিন লাখ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। আলাদা হওয়ার আগে এটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কল্যাণ বিভাগের অংশ ছিল।
ট্রাম্প বারবার শিক্ষা বিভাগটি বিলুপ্ত কথা বলে আসছে। এটিকে ‘বড় ধরনের প্রতারণামূলক কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদেরও এই বিভাগটি বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন তিনি, কিন্তু কংগ্রেস সাড়া দেয়নি। শিক্ষা বিভাগ যুক্তরাষ্ট্র ভূখন্ড জুড়ে প্রায় এক লাখ সরকারি ও ৩৪ হাজার বেসরকারি স্কুলের তত্ত্বাবধান করে। তবে সরকারি স্কুলগুলোর ৮৫ শতাংশের বেশি তহবিলের যোগান দেয় অঙ্গরাজ্যগুলো ও স্থানীয় সরকারগুলো।
শিক্ষা বিভাগ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার অর্থ সরবরাহ, আর্ট প্রোগ্রামগুলোতে তহবিল যোগানো আর জরাজীর্ণ অবকাঠামোর স্থলে নতুন অবকাঠামো তৈরিতে অভাবে থাকা স্কুল ও কর্মসূচীগুলোকে ফেডারেল অনুদান সরবরাহ করে থাকে।
ট্রাম্প ও তার ধনকুবের উপদেষ্টা ইলন মাস্ক মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) মতো বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচী বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষা বিভাগের মতো মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ের সংস্থাকে বিলুপ্ত করা ট্রাম্পের প্রথম প্রচেষ্টা হতে যাচ্ছে।
তবে এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগেই অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি দল এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। এই বিভাগটি বিলুপ্ত করা ও গত সপ্তাহে ঘোষিত প্রায় অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করা থেকে ট্রাম্পকে বাধা দিতে তারা একটি মামলা করেছেন।