মার্কিন জেনারেলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল
মাসুদ করিম; ঢাকা থেকে
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৩:৩৪ এএম, ২৯ মার্চ ২০২৫ শনিবার

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে গেলেন ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের ডেপুটি কমান্ডিং জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোয়েল পি ভাউয়েল। তার আগমন ও প্রস্থান অনেকটা গোপনেই ঘটলো। যদিও এমন একটা সফরের কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক আগেই চাউর হয়েছে। কিন্তু তিনি সফর শেষ করে যাবার পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কোনও পক্ষই তা প্রকাশ করেনি। তবে তিনি সফর শেষ করার পর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তার সফরে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সে সম্পর্কে খানিকটা উল্লেখ করেছে। বিশদ বিবরণ দেয়নি। বাংলাদেশের তরফে সাধারনত বিদেশী কোনও জেনারেলের সফর সম্পর্কে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু জেনারেল ভাউয়েলের সফরের বিষয়ে আইএসপিআর কোনও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়নি। সামরিক বাহিনীর একটি ফেসবুক পেইজে জেনারেল ভাউয়েলের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের একটি ছবি পোষ্ট করা হয়েছে। তার বেশি কিছু অফিসিয়ালি জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রভাবশালী জেনারেল বাংলাদেশে আসার আগে কিছু কিছু মিডিয়ায় স্পেকুলেশন করে যে, মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে তিনি আসছেন। কারণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক অংশীদারিত্ব আছে। শেখ হাসিনার আমলে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ থাকলেও দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় ছিলো। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চরম বৈরীতার মধ্যেও দুই দেশের সেনাবাহিনী যৌথ মহড়াসহ নানা কর্মকান্ড করেছে। এই পার্টনারশিপটা স্থায়ী এবং প্রাতিষ্ঠানিক রুপ লাভ করায় দুই রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেমনই থাকুক না কেন সেনাদের সম্পর্কে কখনও কোনও চিড় ধরেনি। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপ, প্রতিরক্ষা সংলাপ ইত্যাদি প্রতিবছর নিয়মিত সংলাপ হয়ে থাকে। তার বাইরে এমনভাবে জেনারেলদের সফর বিনিময় হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মি নামের বার্মিস একটি গ্রুপের সঙ্গে দেশটির ক্ষমতাসীন জান্তার নিয়মিত আর্মির যুদ্ধ চলছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে বেশ শক্তিশালী অবস্থান সৃষ্টি করেছে আরাকান আর্মি। অনেক জায়গাই গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বার্মা অ্যাক্ট করে জান্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধরতদের মারনাস্ত্র বাদে যাবতীয় সহায়তা দেবার আইন প্রণয়ন করেছে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে এসব যাবার ঘটনা খোদ বাংলাদেশের নিরাপত্তা ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব ফেলবে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
আরাকান আর্মিকে কী বাংলাদেশ সহায়তা করবে ? এটা ঠিক, আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যে শক্ত অবস্থান সৃষ্টির পর বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই আরাকান আর্মির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে আরাকান আর্মি স্বীকৃতি পাওয়ার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই মূহুর্তে তাদের স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। বাংলাদেশ আরাকান আর্মিকে স্বীকৃতি দিলে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হবে কিংবা সম্পর্ক মারাত্মক খারাপ হবে।
বাংলাদেশের অগ্রাধিকার হলো, রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো। এই কাজে আরাকান আর্মি সহায়তা করবে বললেও সেটা কতটা আন্তরিক সেই প্রশ্নও আছে।
মার্কিন জেনারেলের সফর সম্পর্কিত বিবৃতিতে আমারান আর্মির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য পেশাদার সামরিক বাহিনী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন জেনারেল বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীতে যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্রের সংমিশ্রন ঘটিয়ে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে পেশাদার বাহিনীতে রুপান্তরের কথা বলছেন। এটাকে সহজ করে বললে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবের সময়ে কয়েক দিনের মাথায় প্রধান উপদেষ্টা চীন সফরে গেছেন। চীন হলো বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রধান উৎস। চীনের অস্ত্র দামে কম। তাই বাংলাদেশ চীনের থেকেই অস্ত্র কেনে। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অস্ত্র বিক্রি করতে পীড়াপীড়ি করছে। মার্কিন অস্ত্রের দাম অনেক বেশি। তবে জেনারেল যেহেতু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কথা বলছেন,তখন মার্কিন অস্ত্রে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী পেশাদার হবে। এই যুক্তি খতিয়ে দেখতে পারি।
মার্কিন দূতাবাস বলেছে, অভ্যন্তরীন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ করে দুর্যোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেবার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ##