জামাইকার খলিল বিরিয়ানীর মালিকানা নিয়ে মামলা
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৫:০৭ এএম, ২৯ মার্চ ২০২৫ শনিবার

জামাইকা খলিল বিরিয়ানী হাউজের বিরুদ্ধে মামলা করলেন খলিলুর রহমান। আর এ মামলা হয়েছে জামাইকাস্থ খলিল বিরিয়ানীর বর্তমান স্বত্ত্বাধিকাররী ইমরান হাসান রায়হান ও জুয়েলের বিরুদ্ধে। খলিলের অভিযোগ, তারা চুক্তি অনুসারে তাকে শেয়ার সার্টিফিকেটের শতকরা ৫০ ভাগ দেবার কথা থাকলেও দেয়নি। বরং বিবাদীরা চুক্তি ভঙ্গ করে ব্যাংক একাউন্ট চেঞ্জ করেছে। খলিল ব্রান্ডের সুনাম ক্ষুন্নের অভিযোগও এনেছেন খলিল রহমান। এ ব্যাপারে জামাইকা খলিল বিরানী হাউজের সিইও ইমরান হাসান রায়হান প্রতিবেদককে বলেন, এই বিরিয়ানী হাউজের কোন ইনভেস্টমেন্ট খলিলের নেই। তার দাবি অযৌক্তিক। আর মামলাটি করেছেন খলিল। আমরা কোন মামলা করিনি। আশা করি আদালতেই বিষয়টির ফয়সালা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে রায়হান বলেন, প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষন্ন রেখে কাজ করছি। আমরা খাবারের মান ও কাষ্টমার সেবার প্রশ্নে আপোষ করছি না। অসাবধানতাবশত: কোন ত্রুটি থাকলে আমরা শুধরিেেয় এগিয়ে যাব। জামাইকা খলিল বিরিয়ানীর মান উন্নয়নে আমরা পরিশ্রম করে যাচ্ছি। খলিল বিরিয়ানী হাউজ নিউইয়র্ক সিটিতে একটি ব্রান্ড। সুস্বাদু, হালাল ও হাইজ্যানিক খাবারের জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটি সহ অন্যান্য জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে । ব্রংকসের পার্কচেষ্টারে এর ব্যবসায়িক হাব হলেও জ্যাকসন হাইটস ও জামাইকার হিলসাইডে এই নামে দুটি রেষ্টুরেন্ট রয়েছে। ব্রংকসের খলিল বিরিয়ানীর মান ও সেবা নিয়ে কাস্টমাররা সন্তুষ্ট। কিন্তু জামাইকা শাখা ভোজনবিলাসীদের কাছে আস্থার যায়গাটি তৈরি করতে পারেনি। বিশেষ করে জামাইকার খলিল বিরিয়ানী নিয়ে রয়েছে গ্রাহকদের বিস্তর অভিযোগ। খলিল বিরিয়ানীর মালিকানা ও পার্টনারদের দ্বন্ধের কারনেই জামাইকার খলিলের সুনাম ক্ষুন্ন হবার প্রধান কারন বলে জানা গেছে। এর নিয়ন্ত্রন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মালিকদের মধ্যে চলছে টানাপোড়েন।
এ ব্যাপারে খলিলুর রহমান খলিল আজকালকে বলেন, আমার রেষ্টুরেন্ট জবরদস্তি করে দখল করে রেখেছে। ১ মিলিয়ন ডলারের রেষ্টুরেন্টের মূল্য ধরা হয় শুরুতে। যার ব্রান্ড ভ্যালু হিসেবে খলিলের বিনিয়োগ ধরা হয় ৫ লাখ ডলার। আর অবশিষ্ঠ ৫ জন পার্টনারের ( রাজ ব্রাদার্স) বিনিয়োগ ৫ লাখ ডলার। এর আড়াই লাখ পজিশনের মূল্য ও আড়াই লাখ ডলার নগদ হিসেবে বিনিয়োগ করেন তারা। চুত্তি অনুযায়ী ৫০ ভাগ মালিকানা আমার। এরপর মে মাসে তারা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দোকান পরিচালনার দায়িত্ব আমাকে সম্পূর্নভাবে প্রদান করে। বিনিময়ে তাদেরকে প্রতিমাসে ১২ হাজার ডলার প্রদানে সিদ্ধান্ত হয়। এ ভাবেই চলছিল। গত ডিসেম্বরে আমি দেশে গেলে অবৈধভাবে তারা রেষ্টুরেন্টের দখল নেয়। আমার অজান্তে ব্যাংক একাউন্ট পরিবর্তন করে। ক্যাশ রেজিস্টার থেকে আমার নাম তুলে নেয়। আমি দেশ থেকে ফিরে তাদের নিয়ম বর্হিভূতকর্মকান্ডের বিরুদ্ধে মামলা করি। মাননীয় আদালত আমার পক্ষে একটি নির্দেশনা প্রদান করেছে। এখন তারা একাউন্ট পরিচালনা করতে পারবে না। আগামী এপ্রিল মামলাটির ওপর পূর্নাঙ্গ শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।
খলিল বিরিয়ানী গেল বছর চেইন রেষ্টুরেন্ট এর ফ্রানচাইজ হিসেবে স্টেটের অনুমতি পেয়েছে। বাফেলো, পেনসিলভেনিয়া, ম্যারিল্যান্ড সহ বিভিন্ন শহরে চেইন রেষ্টুরেন্ট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু খলিল রেষ্টুরেন্টের খাবারের মান নিয়ে এমন ব্রিবতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে হোঁচট খাবে খলিলের স্বপ্ন। অভিযোগ পেলে বাতিল হয়ে যেতে পারে ফ্রানচাইজের অনুমতি। সিইও হিসেবে খলিলুর রহমানের এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।