আদালতেই সিডিপ্যাপ সার্ভিসের ভাগ্য নির্ধারণ
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৪:২৮ এএম, ৫ এপ্রিল ২০২৫ শনিবার

আজকাল রিপোর্ট: হোম কেয়ার সার্ভিসের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ শুক্রবার ৪ এপ্রিল। সিডিপ্যাপ এজেন্সীগুলো আগামীতে এফ আই (ফিস্কাল ইন্টারমেডিয়ারি) হিসেবে কাজ করতে পারবে কিনা, নাকি পিপিএল একাই এফ আই সিডিপ্যাপ হিসেবে কাজ করবে তা নির্ধারিত হবে আজ। নিউইয়র্ক স্টেট হেলথ ডিপার্টমেন্টের সিদ্ধান্ত অনুসারের সিডিপ্যাপ পরিচালনার দায়িত্ব পায় পিপিএল। ডিপার্টমেন্ট সকল সিডিপ্যাপ এজেন্সীর পারমিশন বাতিল করে। ৩১ মার্চের মধ্যে রোগীদের পিপিএল স্থানান্তরের শেষ তারিখ ছিল।স্টেট গর্ভনমেন্ট ও হেলথ ডিপার্টমেন্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হোম কেয়ার এজেন্সী মামলা দায়ের করে। ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের একটি ফেডারেল কোর্ট গত সোমবার ৩১ মার্চ পিপিএল এ নতুন করে রেজিস্ট্রেশন স্থগিত ঘোষণা করে। আজ শুক্রবার উভয় পক্ষের শুনানী শেষে আদালত রায় প্রদান করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, পিপিএল’র কাছে স্থানান্তরের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। তা হতে পারে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এতে সিডিপ্যাপ এজেন্সীগুলোর সাথে এখনও যেসব রোগী রয়েছেন তাদের সেবা দিতে পারবেন। তবে ২ লাখ ৬০ হাজার রোগীর মধ্যে ২ লাখই ইতোমধ্যে পিপিএল এর সাথে রেজিস্ট্রিকৃত। তারা তাদের সেবা পিপিএল এর মাধ্যমেই পেতে থাকবেন। প্রায় ২০ হাজার আবেদন এখনও প্রক্রিয়াধীন আছে। পিপিএল জানিয়েছে, রেজিস্ট্রেশনে কিছু সময় লাগছে। এটা সম্পন্ন হলে ব্যাক পে সহ বকেয়া পেমেন্ট প্রদান করা হবে। এতে উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই। নিউইয়র্কের ৬৮০টি সিডিপ্যাপ এজেন্সী একক পিপিএল এর মাধ্যমে সিডিপ্যাপ সেবা পরিচালনার বিপক্ষে। তাদের দাবি ইকুয়াল জাস্টিসের মাধ্যমে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়া হোক। একক কোম্পানীকে এই ব্যবসার কর্তৃত্ব প্রদান করে গর্ভনর মনস্টারের ভুমিকায় অবতীর্ন হয়েছেন।
একাধিক প্রতিষ্ঠান এই মামলার বাদী হিসেবে রয়েছেন।তাদের মধ্যে রয়েছে গ্লাইডেডন এলএলসি, আমেরিকান হোম কেয়ার, ব্রুকলিন সেন্টার ফর ইন্ডিপেন্ডেন্স অব দ্য ডিস্যাবেল্ড ও রিজিওনাল সেন্টার ফর ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিভিং, লিজা এঞ্জেসার, ম্যারিসল গেচিয়াস, গীতাঞ্জলি সিপারসড তার পরবর্তী বন্ধু, সাবিত্রী সিপারসড, এবং মারিয়া জেইম, তার নিজের পক্ষে এবং ওয়াই.পি.এস সহ অনেকে। জাজ ফ্রেডারিক ব্লক ৪ এপ্রিল পর্যন্ত পিপিএলে সিডিপ্যাপ রোগী রেজিেিস্ট্রশনের স্থগিত ঘোষণা করেন। আজ বাদী ও বিবাদী হেলথ ডিপার্টমেন্ট ও পিপিএল এর কাছে বক্তব্য শুনে আদালত রায় প্রদান করবেন।
মেডিকেউড প্রকল্পের অধীনে সিডিপ্যাপ পরিচালিত হয়। গত ১০ বছর ধরে পুরো স্টেটের ৬৮০টি এজেন্সী সিডিপ্যাপ (কনজুমার ডাইরেকটেড পারসোনাল এসিসট্যান্স প্রোগ্রাম) পরিচালনা করতো। তা পরিচালনার জন্য স্টেট গর্ভমেন্ট এককভাবে এখন পিপিএল ওপর হস্তান্তর করেছে। এতে ৬৮০টি এজেন্সী আজ ধ্বংসের মুখে।
বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সিডিপ্যাপ সার্ভিস খুবই জনপ্রিয়। প্রায় ৫০ হাজার বয়স্ক বাংলাদেশী এ সেবা গ্রহণ করেন। তাদেরকে কেন্দ্র করেই কমিউনিটিতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ৫০টিরও অধিক হোম কেয়ার এজেন্সী গড়ে উঠেছ্।ে রয়েছে ৫ শতাধিক এজেন্ট। সিডিপ্যাপ এককভাবে পিপিএল এর কাছে চলে যাওয়ায় অনেক এজেন্সীই পথে বসতে যাচ্ছে। বেকার হতে চলেছেন শত শত এজেন্ট। এতে পুরো কমিউনিটিতে হতাশা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট শাহ নেওয়াজ আজকালকে বলেছেন, শুক্রবারের রায়ের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। যদি মাননীয় আদালত সিডিপ্যাপ এজেন্সীগুলোকে কনটিনিউ করতে আদেশ দেয়, তা হলে তা খুবই খুশির খবর। সেক্ষেত্রে হেলথ ডিপার্টমেন্ট থেকে নতুন করে পারমিশন নিতে হবে। অথবা হেলথ ডিপার্টমেন্ট সারকুলার দিতে পারে, যারা অতীতে এফআই হিসেবে কাজ করেছে তারা সিডিপ্যাপ সেবা দিতে পারবেন। গত ৩১ মার্চ থেকে আমাদের কোন এফআই পারমিট নেই। । এমএলটিসি’র এগ্রিমেন্ট ও অথরাইজেশন নেই। আদালত রায় আমাদের পক্ষে এলে এই জিনিষগুলো সংগ্রহ করতে হবে। তা’হলেই আমরা কাজ শুরু করতে পারবো। অনেকেই না বুঝে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন। এখন ৪ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষাই শ্রেয়।
বাংলা সিডিপ্যাপের প্রেসিডেন্ট আবু জাফর মাহমুদ বলেছেন, রায় আমাদের পক্ষে আসবে। গর্ভনরের খামখেয়ালীতে আমেরিকার মানুষ একটি কোম্পানীর কাছে জিম্মি হতে পারে না। সুবিচার আমরা পাবই।
বেস্ট কেয়ার এর এডমিনিস্ট্রেটর সৈয়দ আল আমীন রাসেল প্রতিবেদককে বলেন, ২ লাখ রোগী ইতোমধ্যেই পিপিএল এর সাথে রেজিস্ট্রেশন করেছে। ২০ হাজার আবেদন প্রক্রিয়াধীন। শুধুমাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার রোগীর ট্রানজিশনের ব্যাপারে আদালত থেকে রায় আসতে পারে। এই ট্রানজিশন পিরিয়ড সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়তেও পারে। পিপিএল ইতোমধ্যে ‘লেট রেজিস্ট্রেশন উইনডো ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এরমধ্যে রেজিস্ট্রেশ্ন হলে বকেয়া বেতন ব্যাক পে হিসেবে প্রদান করা হবে। অনেকেই হোম কেয়ার নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়া্েচ্ছন। শুক্রবার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আদালতের আদেশের পর পিপিএলও ইতোমধ্যে একটি নোটিশ দিয়েছে। সেখানে তারা বলছে, একজন বিচারক একটি সীমিত, স্বল্পমেয়াদী আদেশ জারি করেছেন যার মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক স্টেটের একক রাজ্যব্যাপী আর্থিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পিপিএল-এ রূপান্তরের কিছু উপাদান স্থগিত করা হয়েছে। তারা বলছে, আপনারা অনুগ্রহ করে আতঙ্কিত হবেন না, এটি সেইসব গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় যারা ইতিমধ্যেই পিপিএল-এর সাথে তাদের নিবন্ধন শুরু করেছেন বা সম্পন্ন করেছেন, অথবা তাদের সংশ্লিষ্ট পিএ-দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয়। এটি গ্রাহক এবং পিএ-দের পিপিএল-এর সাথে তাদের নিবন্ধন শুরু করতেও বাধা দিচ্ছে না বা প্রদান করছে না। আমরা আপনাকে পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনার নিবন্ধন এবং সময় ট্র্যাকিং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করছি।
পিপিএল তাদের কাছে যারা বিভিন্ন হোম কেয়ার থেকে কেইস স্থানান্তর করেছেন তারা যাতে সেই অনুযায়ী সেবা পাবেন ও কোন ধরণের চিন্তিত না হন তা পিপিএল নিরসন করার চেষ্টা করছে।