দেশের রাজনীতি নিয়ে প্রবাসে এ কী হচ্ছে!
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৩

মন্তব্য প্রতিবেদন :
নিজ বাসভূমি থেকে প্রায় দশ হাজার মাইল দূরত্বের এই আমেরিকায় আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশিরা দেশের রাজনীতি নিয়ে এ কী কান্ড করছেন? দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র নামে বিভক্ত দুটি পক্ষ মূলত এখানে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশি কমিউনিটিকেই বিভাজিত করে ফেলেছেন। দেশের মায়া ত্যাগ করে এই প্রবাসে চলে আসা মানুষদের যেখানে সুখে-দুখে একসাথে থাকার কথা সেখানে তারা এখন লিপ্ত পারস্পরিক কোন্দলে। এ কোন্দল দুঃখজনকভাবে এখন আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে রূপ নিয়েছে হানাহানিতে, সহিংসতায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনা এই বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির গরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আমেরিকার মাটিতে কেন আমাদের হানাহানিতে লিপ্ত হতে হবে? রাজধানী ওয়াশিংটনের প্রকাশ্য রাজপথে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে পরস্পরের ওপর হামলা, পানির বোতল ছুঁড়ে মারা, কিল-ঘুষি এমনকি হাতের লাঠি দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হওয়া এবং পরিণামে পুলিশের ধমক, গ্রেফতার এবং গাড়ির সঙ্গে চেপে ধরে হাতকড়া পরানো ইত্যাদি সব ঘটনা কি কোন সভ্য জাতির জন্য শোভা পায়? এই সব ঘটনা আমাদের ভাবমূর্তিকে কোথায় নামিয়ে দিয়েছে সে বোধ কি তাদের আদৌ আছে?
বলতে দ্বিধা নেই, এই বোধের পরিচয় দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। শান্তিপ্রিয় ও পরিশ্রমী কমিউনিটি হিসাবে নিজেদের যে ইমেজ বাংলাদেশিরা দিনে দিনে গড়ে তুলেছে তাকে নস্যাৎ করে দিতে তারা সামান্যতম কুন্ঠিত হননি। আমেরিকার মাটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশ বা বিক্ষোভ করে আসলে তাদের কোন স্বার্থ হাসিল হচ্ছে তাও সকলের কাছে বোধগম্য নয়। দেশের রাজনীতিতে এদের এই কর্মকান্ডের মূল্যায়ন কিভাবে হচ্ছে, দলীয় হাই কমান্ডের কাছে প্রবাসীদের এই রাজনৈতিক তৎপরতা কতটা সমাদৃত হচ্ছে সে সম্পর্কে কমিউনিটি সম্যক ওয়াকিবহাল নয়।
দেশের রাজনীতিতে দলগুলির সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন তা হলো ভোট। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নেই। সে দিক দিয়ে তাদের সমর্থন বা বিরোধিতার কোন মূল্য থাকার কথা নয়। তার পরও কেন তারা এই দূর দেশে বাস করে পক্ষে-বিপক্ষে এমন হানাহানি করেন?
ইতোপূর্বে আমরা লক্ষ্য করেছি দেশের রাজনৈতিক নেতারা আমেরিকা সফরে এসে দলীয় নেতা-কর্মীদের নসিহত করতেন এদেশের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে। এদেশের রাজনীতিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যাণে অবদান রাখতে। এ নসিহত এখনকার রাজনীতিকদের মুখে শোনা যায় না। এখনকার রাজনীতিকরা এদেশে এসে কর্মীসভায় সংবর্ধনা নেন এবং দেশের রাজনীতি নিয়ে জ্বালাময়ী বক্তৃতা করে উত্তাপ ছড়িয়ে দেন। সেই উত্তাপে উজ্জ¦ীবিত হয়ে কর্মী সাধারণ আরো দ্বিগুন উত্তেজনায় রাস্তায় নেমে আসেন। স্বীকার করতেই হবে, এই কর্মীরা নিবেদিতপ্রাণ। দলের জন্য, দলের নেতা-নেত্রীদের পক্ষে তারা জান কবুল করে দিতেও পিছপা হন না। তারাই জঙ্গী মনোভাব নিয়ে রাস্তায় নামছেন, দল এবং নেতা-নেত্রীর পক্ষে গলা ফাটাচ্ছেন এবং প্রয়োজনে সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেন।
আমেরিকায় আশ্রয় নেয়া অন্য আর কোন দেশের মানুষ কি নিজ দেশের রাজনীতি নিয়ে এখানে হানাহানি করছেন? আর কোন দেশের অভিবাসীরা কি এ দেশে বসে নিজেদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলির শাখা গঠন করছেন? রাজনৈতিক উত্তাপ তো কম-বেশি সব দেশেই রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশি প্রায় সবগুলি দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা তো নানা রাজনৈতিক ইস্যুতে টগবগ করছে। এ সব দেশের হাজার হাজার মানুষ এদেশে বসবাস করছেন। তাদের রাজনীতি সচেতনতা, নিজ মাতৃভূমির প্রতি তাদের ভালবাসা বাংলাদেশিদের চাইতে নিশ্চয় কোন অংশে কম নয়। কিন্তু তারা কি কেউ নিজের দেশের রাজনীতি নিয়ে এখানে মাতামাতি করছেন? ‘দেশ উদ্ধারের’ যত দায় শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এমন ‘ফরজ’ হয়ে উঠল কেন?
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সংবাদ সংগ্রহে গণমাধ্যমের যারা ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন নিউইয়র্কে ফিরে আসার পর সাধারণ অভিবাসী থেকে শুরু করে সবাই তাদের কাছে শুধু বাংলাদেশিদের মারামারি-হাতাহাতির কথাই জানতে চাইছেন। কেউ একটিবারের জন্যও জানতে চাননি, যে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন বাতিল করেছিল বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল সেই সংস্থাটি থেকে বাংলাদেশ কিভাবে সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণ আদায় করে নিল!
এই সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে কার কি স্বার্থ হাসিল হচ্ছে তা আজ এক বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে কমিউনিটির সামনে। এ নিয়ে যে যার মতো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করছেন। কমিউনিটি বিশ্বাস করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রাস্তায় অবস্থান নেয়ার পরিণামে অনেকেরই ভাগ্য ফিরে যাচ্ছে। বিশেষ করে গুটিকয়েক নেতা এখান থেকে ঠিকই স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছেন। নিউইয়র্কের বাংলা সাপ্তাহিকগুলি নানাভাবে এ ব্যাপারে আভাস দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সরকারি দলের যারা রাস্তায় নেমেছিলেন তারা অনেক ক্ষেত্রেই নানা সুবিধার অধিকারী, বিশেষ করে দলের নেতৃবৃন্দ। এই নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেউ কেউ ব্যাংকের মালিকানা পেয়েছেন, কেউ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের। একটি সাপ্তাহিকে লেখা হয়েছে শেখ হাসিনার পক্ষে রাস্তায় অবস্থান নেয়ার কারণে ‘বিশাল পুরস্কার’ পেতে চলেছেন একজন শীর্ষ নেতা। দলের আরো যারা আছেন তারাও সুবিধাভোগী নয়ত সুবিধার আশায়।
আর বিরোধী পক্ষে যারা হানাহানিতে জড়িয়েছেন, পত্রিকার ভাষায়, তারা নাকি তাদের ‘কৃতিত্বের’ সেলফি তুলে লন্ডন-ঢাকায় পাঠিয়েছেন। তারা আশায় আছেন ভাগ্যে কিছু জোটার। আশায় আছেন দলীয় নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ার, দল ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে আরো বড় কিছু প্রাপ্তির! প্রসঙ্গত আরো একটি বিষয় এখানে উল্লেখযোগ্য। নামে গণতান্ত্রিক হলেও এই প্রবাসের কোন রাজনৈতিক দলের শাখা কমিটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয় না। ঢাকা বা লন্ডন থেকে তাদের কমিটি ‘নাজেল’ হয়। সেখান থেকেই যাদেরকে নেতা বানিয়ে দেয়া হয় তারাই এই সব সংগঠনের নেতৃত্ব দেন।
নির্দ্বিধায় বলা যায়, দেশীয় রাজনীতির নামে কিছু মানুষের এইসব ব্যক্তিগত স্বার্থে জলাঞ্জলি যাচ্ছে বাংলাদেশি কমিউনিটির মান-মর্যাদা, নস্যাৎ হচ্ছে তাদের ভাবমূর্তি।
সার্বিক পরিস্থিতিতে বরাবরের মতো আবারও তাদের প্রতি কমিউনিটি আহ্বান, বন্ধ করুন বিদেশের মাটিতে দেশের রাজনীতি নিয়ে দলবাজি, বন্ধ করুন সংঘাত-সংঘর্ষ, হানাহানি। অংশ নিন এ দেশের রাজনীতিতে। এগিয়ে আসুন কমিউনিটির কল্যাণে।

- মহাবিপদে রপ্তানি খাত
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে শুল্ক ইস্যুর সমাধান করা হবে
- আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা
- বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
- গরমে স্বস্তি দেবে অ্যালোভেরার জুস, আরো যে উপকার
- সাইকেল নিয়ে অন্নপূর্ণা জয় করলেন বাংলাদেশের মিলন
- এমিলিয়া ক্লার্ক ভারতীয়!
- ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রায়ও স্বস্তি, এখনো ঢাকা ছাড়ছে মানুষ
- ‘ইউনূস স্যার সততা আর নিষ্ঠার স্বাদ দিয়েছেন মানুষকে’
- বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান ড. ইউনূস
- নেতানিয়াহু প্রবেশ করা মাত্র গ্রেপ্তার করুন: এইচআরডব্লিউ
- লন্ডনে খালেদা জিয়ার ‘পূর্ণাঙ্গ’ স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু
- মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা জান্তা সরকারের
- ড. ইউনূসের প্রতিনিধিকে মার্কিন উপজাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ফোন
- লিবিয়ায় অপহৃত ২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার
- ট্রাম্প কি আসলেই তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন
- ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত
- ভূমিকম্পে ১৭০ প্রিয়জন হারালেন এক ইমাম
- নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে
- কফিতে মশগুল ব্রিটেনে পলাতক সাবেক মন্ত্রীরা!
- ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন
- সাবেক দুই স্ত্রীকে খুশি করতে যা করলেন শাকিব
- মাকে নিয়ে পার্কে ঘুরলেন তারেক রহমান
- ইরান-ইয়েমেনের কাছাকাছি পারমাণবিক বোমারু বিমান মোতায়েন
- মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা
- দুদিনে নিহত ১৩, চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া যেভাবে মরণফাঁদ হয়ে উঠলো
- বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত, ইমাম থাকবেন যারা
- রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২, আহত ৩৫
- ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশিসহ লাখো বিদেশির স্বপ্ন ভঙ
- বছর ঘুরে আজ খুশির ঈদবছর ঘুরে আজ খুশির ঈদ
- আজকের সংখ্যা ৮৪৪
- এবাদুলের মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হংকং-দুবাইয়ে
- রমজানে আরটিভি’র আলোকিত কোরআন প্রতিযোগিতা
- আজকের সংখ্যা আজকাল ৮৩৬
- এ বি সিদ্দিক এবং জাস্টিসকে নিয়ে জামালপুর জেলা সমিতির নতুন কমিটি
- বাংলাদেশ এখন অরাজকতার আগ্নেয়গিরি
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সাতটি সহজ উপায়
- চট্রগাম সমিতির নবনির্বাচিতদের শপথ গ্রহন
- স্ত্রীর উপার্জন দিয়ে সংসার চালানো প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে
- টেক্সট মেসেজ নিয়ে এফবিআই’র সতর্কতা
- আজকাল ৮৫২ তম সংখ্যা
- লাখ টাকা কমছে হজের খরচ
- ৬ মেডিকেল কলেজের নতুন নামকরণ
- নাসার রিসাইকেল চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে দেড় কোটি ডলার জেতার সুযোগ
- লেবানন যুদ্ধে ঝুঁকিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা
- ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কঃ তালি বাজাতে দুই হাত লাগে
- আজকের সংখ্যা আজকাল ৮৩৭
- ‘আজকাল’-৮৪৮ সংখ্যা
- আজকাল সংখ্যা ৮৫১
- ‘আজকাল’ - ৮৪০সংখ্যা

- মানুষের ধ্বংসই শয়তানি শক্তির আরাধ্য
- হারিয়ে যাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ বই বিক্রেতারা
- ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও নিষেধাজ্ঞা’র রাজনৈতিক অর্থনীতি
- অসম্মান তো সবার জোটে না, আমার না হয় জুটলো
- অগুণিত সাধারণ মানুষ আমাকে ভালোবাসে
- নাইপলের মৃত্যুতে শোকাহত বিশ্বসাহিত্য অঙ্গন
- ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার!
- নিষেধাজ্ঞা নয় হুশিয়ারি
- ‘এই ছাত্র রাজনীতির কাছে আমরা অসহায়’
- বাংলাদেশ ও আমার সেই ভালো লাগার অনুভূতি
- বাংলাদেশকে বাঁচাবেন কারা
- নতুন ভিসা নীতির প্রেক্ষাপট-উদ্দেশ্য
- যুক্তরাষ্ট্র কি আবার স্বেচ্ছায় একঘরে হতে চলেছে
- ‘অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেওয়ার সম্পর্ক নেই’
- ‘নিজের পাশে অন্যকে দাঁড়াবার জায়গাটা দিতে হবে’